মাগুরার বাণী

হানি অপেক্ষা মানি বেশি মিষ্ট!!

হানি অপেক্ষা মানি বেশি মিষ্ট!!

উপ-সম্পাদকীয়ঃ

অর্থ অনর্থের মূল। তবে বাস্তবে অর্থ ছাড়া কিছুই হচ্ছে না। ভোগ বিলাসের এই যুগে অর্থ সম্পদে যার যার অবস্থানে তৃপ্ত ব্যক্তিটি খুঁজে পাওয়া দুর্লভ দুস্কর। পরিবার থেকে সর্বত্র অর্থের একচাটিয়া দাপট তা সর্বজন স্বীকৃত। চলছে অর্থের একক আধিপত্য। অর্থের সুঘ্রাণ অতি মোহনীয়। তাইতো হানি অপেক্ষা মানির মিষ্টতা অনেক গুণ বেশি। এর সুবাস সবাইকে উলঙ্গ উন্মাদ করে তুলে। যার যত আছে সে তার থেকে ততগুণ বেশির জন্য ছুটে চলে। অর্থ চর্চায় বৈধ অবৈধের কোন স্থান নেই। অর্থ উপার্জনে বৈধ থেকে অবৈধতার স্থান অধিক জনপ্রিয়। বৈধ অপেক্ষা অবৈধ পন্থা অনেক সময়পযোগী ও অধিক ফলোপ্রসু। বৈধ থেকে অবৈধ পন্থায় সহজে ভাগ্য খুলে যায়। এই পন্থাকে লুঙ্গির কাছার সাথে তুলনা করা হয়। তাইতো কথায় আছে লুঙ্গির কাছা খুলতে সময় লাগলেও ভাগ্য খুলতে সময় লাগে না, যদি লেগে যায়। রাতারাতি ভাগ্য খোলে অবৈধ পন্থায় বৈধভাবে কখন নয়। বৈধ পন্থায় হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত মিলা ভার। যার বেশি অর্থ সে পরিবার,গোষ্ঠি, সমাজ,নেতা, দল, পুলিশ, প্রসাশনসহ সর্বত্র অতি মূল্যায়িত। সম্পদশালীরা সমাজ প্রতি থেকে রাষ্ট্রপতি অব্দি অতি কদরনীয়। সরকারী নির্দেশনা না থাকলেও স্থানীয় প্রসাশনের দপ্তরে দপ্তরে এলাকার ধনকুবের বা বণিকদের তালিকা সযতেœ সংরক্ষণ করা হয়। যে শাসক আসুক না কেন প্রয়োজন অপ্রয়োজনে তাদেরকে স্মরণ করা হয় প্রতি মাসে একাধিকবার। বর্তমান আমলা কর্তৃত্ব শাসন ব্যবস্থায় এক্ষেত্রে বিনিযোগ করে এধরনের অপেশাদার ব্যবসায়ীরা বেশি নিরাপত্তা অনুভব করে থাকে। তাই তারা বিরক্ত না হয়ে খোশ আমেজে এই ফান্ডে চাহিবা মাত্র কাম্য অর্থ বিনিয়োগ করতে কোন কার্পণ্য করে না। বরং চাঁদা দানে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।

অভিজ্ঞতার আলোকে এরা খুব ভালো করেই জানে প্রশাসনের ফান্ডে চাঁদা দেওয়া মানে প্রশাসনের চোখে কালো চশমার ব্যান্ডেজ লেপে দেওয়ার সামিল। এদের ধারনা প্রশাসনে চাঁদা দেওয়ার বিনিময়ে যে কোন অপকর্মতে বৈধতা পাওয়া যায়। এধরনের কাজ মানে নির্বিঘেœ সকল অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার অলিখিত লাইসেন্স হাতে পাওয়ার মধ্যে কোন ফারাক নেই। তাই তারা টেন্ডারবাজি, রডের পরিবর্তে বাঁশ, সিমেন্টের পরিবর্তে বালি, নির্মাণ ও মেরামতের কাজে তিন নম্বর ইটের ব্যবহার, বাঁশের সাঁকো মেরামতের নামে কোটি কোটি সরকারী টাকা লোপাট, ত্রাণ বিক্রি,হাট-ঘাট-জলাশয় ইজারা, উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ইত্যাদির মত দুঃসাহসিক কাজ খুব সহজে এবং নির্ভয়ে নিরাপদে করতে পারে।

এভাবে অবৈধ অর্থ সম্পদ গড়তে গড়তে এক সময় তারা রাজনৈতিক টিকেট কিনে সবাইকে টপকে বিভিন্ন পদ পদবিতে চলে আসে। কাগজি মধু ছিটিয়ে নিজের পক্ষে হাইব্রিড নেতা কর্মীর ভীড় জমায়। এদের অবৈধ অর্থের প্রতিযোগিতায় ত্যাগি কর্মিরা টিকতে পারেনা। অর্থের সাথে যুক্ত হয় ক্ষমতা। আর ঠেকায় কে? এই ডুয়েল পাওয়ারের জোরে তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করতে চায় না। দিন দিন তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অতি অল্প সময়ে তারা দুর্নীতিবাজ থেকে সাহেদ- শামীমের মত মহাদুর্নীতিবাজে রুপান্তরীত হয়ে যায়। সাম্প্রতিক তারা রাতের অন্ধকারে হত্যার উদ্দেশ্যে নারী আমলার সরকারী বাসভবনের বেডরুমে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও নারী কর্মকর্তাকে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার মত জঘন্যতম কাজ করতে সাহস দেখিয়ে দিলো। কাল সাপের ন্যায় সারা বছর দুধ কলা খেয়ে সুযোগ পেয়েই ছোবল দিয়ে দিলো। তাই প্রশ্রয় না দিয়ে অনতিবিলম্বে এদের সকল ক্ষমতা ও অবৈধ অর্থের উৎস বিনাশ না করতে পারলে আরো ভয়াবহ দৃশ্য জাতির জন্য অপেক্ষা করছে।

লেখক
অধ্যক্ষ মাজেদ রেজা বাঁধন
শিক্ষক ও সাংবাদিক

শেয়ার করুন
  •  
    7
    Shares
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *