মাগুরার বাণী

শিক্ষার্থীরা সাবলীলভাবে পড়তে পারবে – এ লক্ষ্যে কাজ করছি– দেশসেরা জেলা প্রা: শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি

শিক্ষার্থীরা সাবলীলভাবে পড়তে পারবে – এ লক্ষ্যে কাজ করছি– দেশসেরা জেলা প্রা: শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

মাগুরা জেলাতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যাতে সাবলীলভাবে ইংরেজি পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে– এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি বলে সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেছেন এবারের দেশসেরা মাগুরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি। এবার-ই তিনি দেশসেরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন যা গত ১লা নভেম্বর ২০২০ সরকারিভাবে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মোখলেছ উদ্দিন বলেন, উদ্ভাবনী আইডিয়া, মোটিভেশন ক্ষমতা, – সত্যিই অতুলনীয়। সরকার সঠিকভাবেই তাঁকে সেরা নির্বাচিত করেছে।
কুমারেশ চন্দ্র গাঁছি নড়াইল জেলার লোহাগাড়া উপজেলার চালিরহাট গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।এরপর তাঁর বাল্যকাল কেটেছে ঝিনাইদহ জেলার কালিগন্জ উপজেলায়। এখান থেকেই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে লেখাপড়া শেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পড়ালেখা শেষে তিনি ১৯৯৭ সালের ২৮ এপ্রিল উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে কালিগন্জ থানায় প্রথম যোগদানের মধ্য তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন শুরূ করেন।এরপর সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে ঝিনাইদহ ও মাগুরায় দ্বায়িত্ব পালন করার পর পদন্নোতি পেয়ে ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারী মাগুরায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন,-এবং অদ্যবদি উক্ত পদে অতি বিচক্ষনতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা খুবই খুশি।আমাদের ডিপিইও স্যার অত্যন্ত সৎ ও যোগ্য একজন ব্যক্তি।তিনি আমাদের সঠিকভাবে গাইড করেন, উনার গাইডেই আমরা বিদ্যালয়ের কাজগুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করি।উনি একজন বিচক্ষন ও নিরহংকার ব্যক্তি, শিক্ষকদের খুব ভালবাসেন। পরিশেষে স্যারের সুস্হতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

মাগুরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: আশরাফুল আলম বলেন, তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষতাসম্পন্ন মানুষ। পাঠদান সম্পর্কে, পাঠদানের কৌশল সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান আছে উনার। যোগ্যতার গুণেই তিনি দেশ সেরা হয়েছেন।আর একটা বিষয়, আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্হার কি অবস্হা সেটা
মূল্যায়ন হয়েছে মাগুরা জেলাকে নিয়ে। মাগুরা জেলার বেশ কয়েকটি স্কুলকে দেখেছেন বিদেশিরা এবং এর উপর রিপোর্ট করেছেন।এর আগের রিপোর্ট ছিলো ৩৫%শিক্ষার্থীরা রিডিং পড়তে পারতো, কিন্তুু বর্তমান রিপোর্টে সেটা দাড়িয়েছে ৭২% এবং এটা বাংলাদেশের মধ্যে রেকর্ড।

শালিখা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকবর হোসেন বলেন, আমাদের ডিপিইও স্যার দেশসেরা হওয়ায় আমরা খুব খুশি। তিনি অফিসিয়াল নির্দেশনাগুলো সঠিক সময়ে আমাদের দিতেন।যেকোন কাজের ব্যাপারে তাঁকে জানালে সাড়া দিতেন।তিনি একজন শিক্ষাবান্ধব অফিসার। ব্যক্তি হিসেবে তিনি অত্যন্ত সৎ এবং আমাদের সাথে সবসময় চমৎকার ব্যবহার করেন।

মহম্মদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, আমাদের ডিপিইও স্যার দেশসেরা হওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিস ও মহম্মদপুর শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। স্যার মানসম্মত শিক্ষার জন্য দীর্ঘদিন নিরলসভাবে কাজ করেছেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে মানসম্মত বেগ দিয়েছেন মাগুরায়। মাননীয় সাবেক সিনিয়র সচিব জনাব আকরাম আল হোসেন এর সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা অনুসরন করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে আমরা স্যারকে সহযোগিতা করেছি।স্যারের এই সাফল্য আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিলো যেটি আজ পূর্ণতা লাভ করলো। স্যারের এই সফলতা আমাদের গৌরব।

মাগুরা শহরে অবস্হিত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা আরজু বলেন, আমাদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় আমি গর্বিত। তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রত্যেকটি স্কুল সম্বন্ধে নিয়মিত খোজ খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন। আমাদের মাগুরার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার যে উন্নতি তার একমাত্র অবদান আমাদের বর্তমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয়ের।

শেয়ার করুন
  •  
    32
    Shares
  • 32
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *