মাগুরার বাণী

মাগুরায় মসজিদ মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে রুপদাহ-কালুপাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টির আশংকা

মাগুরায় মসজিদ মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে রুপদাহ-কালুপাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টির আশংকা

মতিন রহমান, মাগুরার বাণীঃ

মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুর ইউনিয়নের কালুপাড়া পশ্চিমপাড়া ফুরকানীয়া মকতব মাদ্রাসাটি ১৯৮০ সালে স্থাপিত হয়।

এলাকাবাসী জানায়, বিভিন্ন লোকের দানকৃত জমির উপর ১টি মসজিদ এবং ১টি মাদ্রাসা নিমার্ণ করেন। সেখানে রুপদাহ এবং কালুপাড়া পাশাপাশি গ্রামের লোকেরা নিয়মিত নামাজ পড়ে আসছেন। সেইসাথে ওই মাদ্রাসায় এলাকার কোমলমতি শিশুরা সকালের মকতবে কোরআন হাদিসের বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে। এছাড়া ওই মাদ্রাসার জায়গাতেই ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়ানো হয় বলেও জানা গেছে।

 

কোনো আপত্তি ছাড়াই মসজিদ এবং মাদ্রাসাটির ব্যবস্থাপনার জন্য উভয় গ্রামের লোকেদের নিয়ে একত্রে একটি কমিটি গঠিত হয়ে আসছে। এতে পরস্পরের মধ্যে আন্তরিকতা এবং ভালোবাসা ছোয়া রয়েছে বলেও জানা গেছে ।

কিন্তু এত দিন পরে এসে আগের কমিটি থাকার পরও সম্প্রতি সময়ে একটি প্রভাবশালী মহল নতুন আরেকটি কমিটি তৈরি করে কালুপাড়া মাদ্রাসার উপর নতুন করে মসজিদ নির্মাণের পাঁয়তারা করছে বলে ওই এলাকায় অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকাবাসীর পক্ষে উক্ত জামে মসজিদ এবং মাদ্রাসা কমিটির সহ-সভাপতি নূর মোহাম্মদ মুন্সি স্থানীয় চেয়ারম্যান, মাগুরা সদর থানায় সহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং সেই অভিযোগ পত্রে এসব কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি ওই এলাকার মোঃ শাহাজাহান, মোঃ আকবর, নূরনবী, জাহের, সরাফত আলী, মনা, জয়নাল, এরফান, নূরুল আমিন, মান্নান, আবদুল হাই সহ অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন মসজিদ করতে হলে আলাদা জায়গায় তারা মসজিদ নির্মাণ করুক। তবে নতুন কমিটি করে মাদ্রাসার জায়গায় তারা নতুন করে আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করবেন এটা হতে পারেনা কারণ পুরোনো ঐতিহ্যের এই প্রতিষ্ঠান হঠাৎ ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে শেষ হয়ে যাক এটা আমরা এলাকাবাসী কখনোই চাইনা।

এঘটনায় বেশ কিছু দিন ধরে ওই এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও বিভেদভাব বিরাজ করছে। এদিকে গ্রামবাসীর পক্ষে মুন্সি নূর মোহাম্মদ চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মাগুরা সদর থানায় একইমর্মে নতুন করে আরো একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে বলে জানায় আগের কমিটির সদস্যরা। এছাড়াও এই ঘটনায় আগের কমিটির পক্ষ থেকে আদালতে একটি মামলা হয়েছে বলে জানা যায়।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তি এবং নতুন মসজিদ নির্মাণের পক্ষের লোকেরা জানায়, আগের মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে রুপদাহ মহল্লার লোকেরা তাদেরকে নানাভাবে হেনস্তা করে এবং বিবাদ সৃষ্টির নানা রকম পাঁয়তারা করে বলেও পাল্টা অভিযোগ করেন। তারা আরো বলেন মসজিদ এলাকা ভিত্তিক অনেকগুলো হতে পারে।

উল্লেখ্য, মাদ্রাসাটি ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের মধ্যে পড়েছে এবং পাশেই রুপদাহ গ্রামের মহল্লা যেখানে জামে মসজিদ রয়েছে। তবে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়ে আবারো উভয় মহল্লার লোকেরা একসঙ্গে একই মসজিদে নামাজ আদায় করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এলাকা সচেতন লোকেরা।
এঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন বলছেন, ঘটনাটি তারা শুনেছেন এবং এটি আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *