মাগুরার বাণী

মাগুরায় থাই লেবু চাষ করে নওশের আলীর ভাগ্য বদল

মাগুরায় থাই লেবু চাষ করে নওশের আলীর ভাগ্য বদল

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী গ্রামের নওশের আলী বারমাসি থাই লেবুর চাষ করে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য বদল করেছেন। চলতি মৌসুমে লেবু চাষ খুব লাভজনক হওয়ায় অল্প দিনেই তার এলাকায় তাকে ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রতিদিন এলাকার উৎসাহী কৃষক ও সাধারণ মানুষ তার বাগান দেখতে এসে সেখান থেকে কলম করা চারা সংগ্রহ করে তারাও বাগান করা শুরু করেছেন।

লেবু চাষী নওশের আলী জানান, চলতি বছরে ৪০ শতক জমিতে ১৭৭টি গাছের লেবু প্রায় ২ লাখ টাকা বিক্রি করার পরও এখনো গাছে প্রায় দেড় লাখ টাকার লেবু রয়েছে। ছোট ছোট প্রতিটি গাছে ১ হাজার থেকে এক হাজার ৫ শত লেবু ধরেছে। আবার সব গাছে ফুল ও কুশি হয়েই যাচ্ছে। এভাবেই সারা বছর গাছে লেবু পাওয়া যায়। বছরে ৫ থেকে ৬ বার লেবু বিক্রি করা যায়। চারা লাগানোর ১০ থেকে ১১ মাস পরই ফল তোলা শুরু করা যায়। রসে ভরা এ লেবুর স্বাদ অনেকটা দেশী কাগুজে লেবুর মতই। তিনি ৪০ শতক বারমাসি থাই লেবুর বাগানে সাথী ফসলের চাষ হিসাবে কিছু লিচুর চারা, ১২০টি সবেদার চারা, ৪০০টি পেঁপের চারা ও ৫ হাজার ওলকপির চারা লাগানো আছে। খরিপ মৌসুমে লেবুর বাগানে মটর কলাই বুনে সাড়ে ৫ মন মটর কলাই পেয়েছিলেন বলেও তিনি জানান। আগামীতে তিনি আরো ২ একর জায়গায় এই বারমাসি থাই লেবুর চাষ বাড়াবেন।
গত এক বছর আগে ঢাকার গাজীপুরের এক ব্যক্তি সরাসরি থাইল্যান্ড থেকে এই চারা এনে তিনি বাগান করেন। তার কাছ থেকে এই চারা অনেক বেশী দামে কিনে এনে নওশের আলী নিজের বাড়ির মধ্যে ৪০ শতক জমিতে ১৭৭টি লেবুর চারা রোপন করেন। গাছে ফল আসার পর তিনিও প্রতি গাছে ২০ থেকে ২৫টি করে কলম বেঁধে দিয়েছেন। তিনি সীমাখালী পিয়ারপুর গ্রামের সুলাইমান হোসেনের কাছে ৩৫০ পিচ চারা, পাঁচকাহুনিয়া গ্রামের কৃষক সৌরভের কাছে ২৭০ পিচ চারা, মাদারীপুরের শিবচর থানার মুন্সি কান্দি গ্রামের বাদশা খালাসীর কাছে ১৭০ পিচ চারা বিক্রি করেছেন। এছাড়া এলাকার অনেকেই ১০ থেকে ২০টি করে চারা নিয়ে তারা বাড়ির আঙ্গিনায় লাগিয়েছেন। এসব চারা তিনি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিয়ত অনেকেই তার মুঠোফোনে চারা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করে যাচ্ছেন।

ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ বারমাসী এই থাই লেবুর রফতানী কারকেরা জানিয়েছে, এলাকা থেকে ট্রাক ট্রাক মাল দিতে পারলে আমরা নিজেরা গিয়ে ন্যয্যমুল্য প্রদান করেই আমরা লেবু নিয়ে আসবো। তাতে কৃষকেরা অধিক লাভবান হবে। বিদেশে মাল রফতানীর প্রত্যাশায় নওশের আলী নিজের এলাকায় এই লেবুর বাগান বাড়াতে ইচ্ছা পোষণ করেন।
ইতিপুর্বে নওশের আলী বিভিন্ন ফসলের চাষ করে মাগুরা জেলা তথা শালিখা উপজেলার শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ কৃষক হিসাবে বিভিন্ন সময় কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রায় ১৫ টি পুরস্কার লাভ করেন। নওশের আলী আদর্শ কৃষক হিসাবে বিভিন্ন ফসল ও ফলের চাষ করার পাশাপাশি মাগুরা-যশোর অঞ্চলের মেঘনা লাইফ ইন্সুরেন্স কোং লিঃ-এর কর্মকর্তা পদে চাকরি করেন।

শেয়ার করুন
  •  
    82
    Shares
  • 82
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *