মাগুরার বাণী

মাগুরায় করোনার প্রভাব চরম আর্থিক সংকটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা! বাস্তবপদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি

মাগুরায় করোনার প্রভাব চরম আর্থিক সংকটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা!  বাস্তবপদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি

সম্পাদকীয়:

মাগুরা পৌর এলাকার বাসিন্দা মধু (২২) ও তুষার (২৩) দুই বন্ধু মিলে কিছু কিছু সঞ্চয় করে গত বছর জানুয়ারী মাসে মাগুরা শহরের এম আর রোডের একটি মার্কেটে দুটি দোকান ভাড়া নিয়ে কফি হাউজ ও স্ন্যাকস ব্যবসা শুরু করেন। দোকানের সিকিউরিটি মানি এক মাসের অগ্রিম ঘর ভাড়া এবং দোকান সাজাতে বেশ কিছু ব্যয় হয়। এরপর সব কিছু গুছিয়ে শুরু করে ক্ষুদ্রব্যবসা। সেই কফি হাউজ ও স্ন্যাকাসের দোকান থেকে তাদের দু বন্ধুর স্বপ্ন বাড়তে থাকে। এক বছরে কর্মসংস্থান করেছেন বেশ কিছু যুবকের। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা “ফ্রেন্ডস ফাস্টফুড কর্নার” থেকেই বাড়ছিল তাদের এগিয়ে যাবার স্বপ্ন। অনেক চড়াই উৎরাই পার হলেও তাদের ব্যবসা গুটানোর চিন্তা করতে হয়নি, তাদের আর্তনাদ করোনা তাদের ব্যবসায় ধস নামিয়ে দিয়েছে। টানা সাধারণ ছুটি ও লক ডাউনে বকেয়া হয়েছে ৪ মাসের দোকান ভাড়া অন্যদিকে জমেছে বিদ্যুৎবিল। মধু ও তুষার জানান, উদ্যোক্তা হয়েও টানা সময় ধরে বেকার জীবন যাপন করছি। করোনায় আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে বড় রকমের। এর প্রভাবে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন মধু ও তুষারের মত মাগুরার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা। লক ডাউন শেষে ব্যবসা বাণিজ্য সীমিত চালু হলেও লাভবান হচ্ছে না তারা। ক্রেতা নেই, লেনদেনও কম। পারিবারিক খরচ মেটাতে দেনার ভরে জর্জরিত অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে প্রায় অর্ধ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন বলে ধারনা বিভিন্ন গবেষনা সংস্থার। জানা গেছে মাগুরার মোট ব্যবসায়ীর ৮০ ভাগই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিসংখ্যান অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মাগুরায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪ হাজার ৯শ ৫৯টি। সবাই কম বেশি বিভিন্ন ভাবে ঋণ গ্রস্থ। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হবার পর জেলা প্রশাসন ও মাগুরা পৌরসভা শহরের দোকান কর্মচারীদের তালিকা করলেও কোন সুফল আসেনি। সরকারি কোন প্রনোদনা পাননি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। মাগুরা চেম্বারঅব কমার্সের সহ সভাপতি ব্যবসায়ী নেতা মোঃ নাজমুল হক লাভলু জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সামনে আরো খারাপ সময় আসছে। গত ৪ মাসে তাদের কেউ ব্যবসা করতে পারেনি। উল্টো পুঁজি ভেঙ্গে খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে শহরের ৯ হাজার দোকান কর্মচারীর তালিকা নিয়েছিল জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ, সেটা কোন কাজে আসেনি। জেলা প্রশাসন মাত্র ২ হাজার দোকান কর্মচারীকে সহায়তা দেয়ার কথা বলেছিল। পরে সেটা স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিতরন করা হয়েছে। সব সেক্টরে যার যার জায়গা থেকে প্রনোদনা বা সহায়তা পেয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছেন। করোনা কালে সাধারণ ছুটি বা লকডাউনে ব্যবসায়ীদের দোকান পাট বন্ধ করতে হয়েছে। ব্যবসা বন্ধ থাকায় তারা ঋণ গ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। ঋণ নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে এখন তাদের পথে বসার উপক্রম। তারা তাদের বিনিয়োগ হারাতে বসেছেন। এই করোনা সংকট কালে তাদের বাঁচাতে সরকারের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরাসহ,সেই সাথে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মোঃ সাইফুল্লাহ
প্রধান সম্পাদক
মাগুরার বাণী

শেয়ার করুন
  •  
    142
    Shares
  • 142
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *