মাগুরার বাণী

বেরইল পলিতা ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতির নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলা

বেরইল পলিতা ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতির নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের সময়  হামলা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্সি তৌহিদুজ্জামান বাবুর নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের সময় বেরইল পলিতা ইউনিয়নের আরেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক রাজার সমর্থকরা মুন্সি বাবুর সমর্থকের উপর হামলা চালায়। বৃহস্পতিবার বিকালে পলিতা বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি মুন্সি তৌহিদুজ্জামান বাবু একজন তরুণ সমাজসেবক এবং ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তার আমন্ত্রণে নির্বাচনী সংবাদের জন্য এলাকার জনসাধারণের ভিডিও চিত্র ধারন করতে স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী ওই এলাকায় কাজ করছিলেন। এসময় বিকালে পলিতা বাজারে এনামুল হক রাজার সমর্থক এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে হামলার শিকার হয় মুন্সি বাবুর সমর্থকসহ স্থানীয় ওই সংবাদকর্মী।

এসব ঘটনায় তৌহিদুজ্জামান বাবু বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তাই আমার নির্বাচনী প্রার্থীতা ঘোষণা করে নির্বাচনী ইসতেহার ঘোষণা করা নিয়ে একটি নিউজ তৈরি করার জন্য একজন সাংবাদিককে বলেছিলাম। তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের চিত্র এবং জনগণের বক্তব্য ক্যামেরায় ধারন করেন। এসময় রাজার সমর্থকরা অতর্কিতভাবে সেই সাংবাদিক সহ আমার লোকজনের উপর হামলা করে। শুধু তাই নয় ইউনিয়নে যেকোনো তুচ্ছ বিষয় নিয়েও বিভিন্ন সময়ে তার লোকজন কাইজা করে মারামারি করে বলে অভিযোগ করেন মুন্সি বাবু। এবারের নির্বাচনে রাজামিয়া সহ অনেকেই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রয়েছেন ইউনিয়নে। তাহলে সবাই প্রচার প্রচারণাই কি তাহলে রাজামিয়া জোর করে বন্ধ করবেন। এটা অন্যায় এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান মুন্সি বাবু।

এদিকে ওই সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ সভাপতি মুন্সি বাবুর নির্বাচনী নিউজ করতে তিনি ওই এলাকায় যান। সকাল থেকে মুন্সি বাবুর উন্নয়নের বিভিন্ন বিভিন্ন চিত্র ধারণ করেন তিনি। সকাল শেষে বিকালের দিকে পলিতা বাজারে চায়ের কাপে নির্বাচনী হাওয়া এমন একটি ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করছিলেন তিনি। চায়ের দোকানে চা বানানোর সময় কাপের ছবি। এসময় পাশের দোকানের মুদি ব্যবসায়ী সিংড়া এলাকার রাজার সমর্থক নাম শাহাবুদ্দিন বলে যে, বাবুর কোনো নিউজ এই ইউনিয়নে করা যাবে না। এই বলে ভিডিওর কাজ বন্ধ করে দেয় শাহজাহান। পরে বিষয়টি মুন্সি বাবুকে জানানোর পরে বিষয়টি নিয়ে ওই দোকানদার সহ সবার সঙ্গে আলাপ করেন বাবু ও তার একজন সমর্থক। পরে বিষয়টি শাহাবুদ্দিন অস্বীকার করলে মিমাংশা হয়ে যায়। এরমধ্যে এনামুল হক রাজার সমর্থক ছাত্রলীগ পরিচয় দানকারী তুহিন নামে একজন আমাকে কল দেয় উচ্চ স্বরে, পরে ওই একই ফোনেই আমাকে এনামুল হক রাজা বলেন বাবুর সহ তিনি নিজেও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী। তাই বাবুর কোনো নিউজ করলে আমাকে সে শরীরের হাড়গোড় ভেঙ্গে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।

এছাড়া আমাকে বাড়ির থেকে ধরে নিয়ে মারার হুমকিও দেয় সাবেক এই ভাইস চেয়ারম্যান রাজা। বলে তুই এখন কোথায় আছিস বল তোকে দেখাচ্ছি। একথা বলার কিছুক্ষণ পরই তুহিনসহ রাজার বাহিনী, সমর্থক পলিতা বাজারে ঢুকে পার্টি অফিসের সামনে ঘেরাও করে এবং হামলা চালায় বাবুর লোকজনের উপর এমনকি আমার উপরেও হামলা করে। এসময় দুপক্ষের ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে স্থানীয় কিছু লোক এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি কামনা করেন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *