মাগুরার বাণী

নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় লাঙ্গলবাঁধ বাজারের ময়লা আবর্জনা গড়াই নদীতে ফেলা হচ্ছে

নির্দিষ্ট স্থান  না থাকায় লাঙ্গলবাঁধ বাজারের ময়লা আবর্জনা গড়াই নদীতে ফেলা হচ্ছে

মফিজুল ইসলাম শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) :

শৈলকূপা ও শ্রীপুরের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গড়াই নদীতে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে দূষণ- ছড়িয়ে পড়ছে রোগব্যাধি। দুই উপজেলার শেষ প্রান্তে গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত এ বাজারের গোশতপট্টি, পোল্ট্রি মুরগি দোকান ও কাঁচা বাজারের যাবতীয় বর্জ্য প্রতিদিন এই নদী ও নদীপাড়ে ফেলা হয়। খোলা জায়গায় জবাই করা গরু-ছাগল, মুরগির রক্ত, বিষ্টা, পচা মাছ ও তরকারির আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে রাখা হয়। এতে করে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে উৎকট দুর্গন্ধ। ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলছে পরিছন্নকর্মী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা। বাজারের বিভিন্ন এলাকায় ময়লা বর্জ্য ফেলায় যেন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে । শুধু তাইনই বাজারের পাশে অবস্থিত গ্রামের বাসাবাড়ির বর্জ্য, প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সংগ্রহ করে তা নদী ও নদীপাড়ে ফেলছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। এতে করে পরিবেশ- প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য যেমন হুমকির মুখে পড়েছে তেমনি দুর্ভোগে পড়েছে পুরো এলাকাবাসী। উৎকট দুর্গন্ধ সহ্য করে পথ চলতে হচ্ছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পথচারীদের। এখানে আবর্জনা ফেলার কোনো নিদৃষ্ট স্থান না থাকায় গড়াই নদীই পরিণত হয়েছে বর্জ্র ফেলার স্থান ।বৃহত্তম এ বাজারের বর্জ্য নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় বর্জ্য আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে নদী তে বর্জ্র ফেলায় এতে করে সেখানে তৈরি হচ্ছে আবর্জনার স্তুুূপ। এতে করে দূষিত হচ্ছে এলাকা, ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ প্রকৃতি। এ ছাড়াও উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া গড়াই নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলে নদীকে বানানো হচ্ছে ময়লার ভাগাড়। বাজারের ‘ভাই ভাই কম্পিউটার এন্ড ডিজিটাল স্টুডিও’ মালিক রহমত আলি জানান নিদিষ্ট স্থানে এসব ময়লা আবর্জনা ফেলা উচিত। তাহলে নদী রক্ষা পাবে।এব্যাপারে বীরমুক্তিযোদ্ধ আব্দুল গফুর মন্ডল জানান, বাজারের বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ অসচেতনভাবেই নদীর মধ্যে এসব ময়লা আবর্জনা ফেলছে। এতে করে নদী দূষিত হয়ে নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি বিপর্যয় ঘটছে পরিবেশের। নানাভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যেন দেখার কেউ নেই।বাজারের বনিক সমিতির উপদেষ্টা চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মোল্যা জানান, কি বলব ভাই, নিদিষ্ট কোন জায়গা নাথাকায় নদীর মধ্যে ময়লা আবর্জনা ফেলায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে সেই সাথে পশুর হাটের স্থানও ভরে আছে আবর্জনায়। ময়লা আবর্জনা ও বর্জ্য নিষ্কাশনের একটা নির্ধারিত স্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে গড়াই নদীর ভিতরে এসব ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। সেই সাথে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাস্টবিন না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ পথচারীরা। এ ছাড়াও বাজারের নির্ধারিত যায়গা না থাকার কারণে যত্রতত্র হাট বাজার বসাতে হচ্ছে। যেন কিছুই করার নেই।চাঁদ আলী মেম্বর জানান বাজারের অধিকাংশ ময়লা আবর্জনা নিয়ে এসে গড়াই নদীর মধ্যে খোলা জায়গায় ফেলা হয়। এখান থেকেই সৃষ্টি হয় উৎকট দুর্গন্ধ। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাতায়াতকারীরা। প্রায় সময়ই দেখা যায় যাত্রীরা নাকে মুখে রুমাল চেপে ওই সড়ক দিয়ে গড়াই নদীর লাঙ্গলবাঁধ Ñ নাদুড়িয়া খেয়া ঘাট পার হচ্ছেন। লাঙ্গলবাঁধের দেব কুমার জানান, ঐতিহ্যবাহী ী নদীতে যে পরিমাণ ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে তাতে আগামী ২০ বছরের মধ্যে এই নদীর কোনো অস্তি ত্ব থাকবে না। তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করে বলেন বিষয়টি নিয়ে একটা সংবাদ পরিবেশন করতে।এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন বাজারটি যেহেতু দুই উপজেলার মধ্যে অবস্থিত সেহেতু সরেজমিনে পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ফেলে নদী ভরাট করা যাবেনা। অপর দিকে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন কবির জানান কোন ভাবেই নদীতে ময়লা আবর্জা ফেলে নদী ভরাট করা যাবে না । আমি ময়লা আবর্জনা নিদৃষ্ট স্থানে ফেলার জন্য বাজার কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হবে। তারপরও যদি ময়লা আবর্জনা নদীতে ফেলা হয় তাহলে মোবাইল কোর্ট বসানো হবে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *