মাগুরার বাণী

ক্ষমতা ব্যতিত অর্থ ও সুখ অসম্ভব!

ক্ষমতা ব্যতিত অর্থ ও সুখ অসম্ভব!

অধ্যক্ষ মাজেদ রেজা বাঁধন,শিক্ষক ও সাংবাদিকঃ

চরম বিজ্ঞানের এই যুগে মৌলিক চাহিদা থেকে বিলাসী জীবন, উচ্চাভিলাসী জীবন, ফুনাটি প্রদর্শন সবগুলোতেই ব্যাপক অর্থ সম্পদ প্রয়োজন। আর এই অর্থ সম্পদ অর্জন এবং সংরক্ষণ করতে প্রয়োজন একচ্ছত্র ক্ষমতা। ভোগ বিলাসের ক্ষেত্র বহুমুখী থাকায় পূর্ব প্রজন্মের চেয়ে বর্তমান প্রজন্মের জীবন যাপনে অর্থ সম্পদ ক্ষমতা অনেকগুণ বেশি প্রয়োজন। পুস্তকে যেটাই পড়ি না কেন, মুখে যাই বলি না কেন মৌলিক চাহিদা পূরণ,আরাম আয়েশ বিলাসিতা প্রভাব প্রদর্শন শখ আহ্লাদ ইত্যাদিতে অর্থ সম্পদ এক মাত্র নিয়ামক বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস, ধারন ও লালন করে থাকি। বাস্তবে এর প্রতিফলন সর্বত্র দেখতে পাই। এক্ষেত্রে অর্থ সম্পদের কোন বিকল্প পন্থা আমাদের জানা নেই। আর জানতেও চাই না। তাইতো ইহা অর্জনে আমৃত্যু অবিরত ছুটে চলা। সব কিছুকে অগ্রাহ্য করে যখন যে ভাবে যেমন করে লুফে নেওয়া যায় তার একটি প্রানবন্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি সারাক্ষণ।

সবাইকে টপকে সটকট পন্থায় অর্থ উপার্জন একটি নান্দনিক ব্যাপার। এই পুরো প্রক্রিয়াটাই এক ধরনের নেশা সাদৃশ্য মোহনীয় বিষয়। এর সুখানুভুতি ভিন্ন স্বাদের। যত অর্জিত হয় তত অর্জন করার আকাংখা বৃদ্ধি পায়। অর্থ প্রাপ্তির তৃপ্তি অতৃপ্তনীয়। টাকার সুঘ্রান মানুষকে আন্দোলিত করে, শিহরিত করে,নিঃতেজ মনকে ফুরফুরা সতেজ করে। বিচিত্র স্বপ্নে অবগাহন করায়। ভীতু কাপুষের হৃদয়ে অন্যের মাথা ফাটানোর মত দুঃসাহস যোগায়। টাকার গরম অতুলনীয় অনুপম। টাকার প্রশান্তি স্বর্গীয়।
বর্তমান যুগে টাকা দিয়ে এহজগতে সবমিলে। এমন কি পরজগতের জন্যও রাস্তা তৈরি করা যায় বলে বেশির ভাগের ধারনা, মুখে যাই বলা হোক না কেন। তাই তো জীবনের একটি পর্যায় ঢাক ঢোল পিটিয়ে দান ক্ষয়রাত করা, পরিবারের সকল সদস্যসহ সদলবলে অনারম্বড় পরিবেশে ঘটা করে তীর্থ যাত্রা, নিজ উদ্দোগে ইম্পোটেড টাইলস দিয়ে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কার্পেট মোড়ানো বিলাস বহুল মসজিদ, মাদরাসা নির্মাণসহ লোক দেখানো নানামুখি ধর্মীয় কার্যকলাপে সক্রিয় অংশ নেওয়া। তাই তো শেষ জীবনে দান দিয়ে সারা জীবনের অপকর্ম ও পাপকে কাটাকাটি করার অপকৌশল অবলম্বন করে। পাপের অঢেল টাকায় মহান সৃষ্টিকর্তাকে তুষ্ট করার অপপ্রয়াস মাত্র। এই সব কিছুই চলছে এহজগতের সুখ নামক পাখিটাকে নিমেষেই হাতের নাগালে পাওয়ার জন্যে।

সুখ মনের একটি অবস্থা বা মানবিক অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সুখ পরিমাপের তেমন কোন একক বা পরিমাপক নেই। সুখ ও অসুখ ব্যক্তি, স্থান সময়, দৃরত্ব পরিস্থিতিতে ভিন্ন হয়। সুখের সংজ্ঞা ব্যক্তি ভেদে পৃথক হয়। সুখের রং সাদা হলেও এর সঙ্গে অনেক কিছু জড়িয়ে তারপর এর শুদ্ধতা সূচিত হয়। আমাদের বাস্তব জীবনে সুখের চেয়ে দুঃখের ঘানি বেশি টানতে হয়। অতঃপর যখন সুখ ধরা দেওয়ার উপক্রম হয়, ঠিক তখন নতুন কোনো অসুখে সেই সুখটাও বিনষ্ট হতে চলে। তবু আমরা সুখের জন্য দুঃখের বীণায় সুর তুলছি অবিরত।

শাস্ত্র বলে সুখ জৈবিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিক, দর্শনভিত্তিক এবং ধার্মিক বিষয়। টাকা, অর্থ,সম্পদ বা ক্ষমতার বিষয় নয়। কিন্তু বাস্তবতা তো অন্য কথা বলে। সুখ অনেকটা মরিচিকা তুল্য। দুরের ব্যক্তিকে অপেক্ষকৃত লোভনীয় সুখি মনে হয়। তাইতো অধিকতর সুখের লাগিয়া দূরপানে ছুটতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে আহত হতে হয়। গায়ের ধুলা ঝেড়ে আবার দৌড়াতে হয় সুখ নামক মরীচিকার পিছনে।

নিজের চাহিদা, পরিবারের অদম্য চাহিদা, শখ আহ্লাদ ইত্যাদি পূরণে অর্থ বা ক্ষমতার কোন বিকল্প বাস্তব জীবনে নেই? যার অর্থ সম্পদ, ক্ষমতা নেই সমাজে বা পরিবারে তার কোন মূল্যায়ন নেই? সে অত্যন্ত অবহেলিত ও তাচ্ছিল্য ব্যক্তি। তাই হয়তো সত্য মিথ্যা,ন্যায়, অন্যায়, পাপ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি,অপরাজনীতি সব কিছুকে কাজে লাগিয়ে সুখের নাগাল পাওয়ার নিমিত্তে অর্থ সম্পদ ও ক্ষমতা অয়ত্তের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। এই প্রচেষ্টায় নীতি নৈতিকতা, ধর্ম,সামাজিকতা, মানবিকতা আত্মীয়তা ইত্যাদির কোন স্থান নেই। শুধুই ছুটে চলা এবং দিন শেষে অনুসুচনার সাগরে হাবুডুবু খাওয়া।

শেয়ার করুন
  •  
    6
    Shares
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *